
শান্তিগঞ্জে হত্যা মামলার আসামী থাকায় ৩ বছর ধরে অনাবাদি ২০ একর জমি
মোহাম্মদ সুলাইমান আহমদ কামরান, শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি::
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব পাগলা ইউনিয়নের ঘোড়াডুম্বুর গ্রামের ২ পক্ষের সংঘর্ষের ১ জন নিহতের ঘটনায় মামলার আসামী থাকায় ৩ বছর ধরে অনাবাদি ২০ একর জমি। হ্যাচারীর মাছ লোট করে নিয়েছে প্রতিপক্ষ। জমি চাষাবাদ করতে গেলে প্রতিপক্ষের বাঁধার মুখে পড়ে লোকশান কোটি টাকা।
জানা যায়, ২০২৩ সালে উপজেলার ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১ জন নিহত হন। পবর্তীতে সংঘর্ষে জড়িত না থাকা স্বত্বেও মামলার আসামী করা হয় গ্রামের মৃত রজন আলীর ছেলে হারুন রশীদকে। মামলার পরেই লোট করা হয় তাঁর বিশাল হ্যাচারীর মাছ সহ ঘরবাড়ি। এর পর থেকেই তিনি সহ তাঁর আত্মীয় স্বজন পলাতক। পরিত্যাক্ত থাকে ২০ একর ফসলী জমি। পরে জামিনে এলাকায় আসলেও নিজ সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারছেন না।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঘোড়াডুম্বুর মৌজার জেএল নং ৮৮, খতিয়ান নং ৩৯২,৪১০ এ মোট ২০ একর ফসলী জমি অনাবাদি রয়েছে। পরিত্যাক্ত প্রায় বসত বাড়ি ও মাছের হ্যাচারী। এসময় এলাকাবাসী জানান, হত্যা মামলার পর থেকেই হারুন রশীদের লোকজন এলাকা ছাড়া। তাই পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে ফসলী জমি ও মাছের হ্যাচারী।
হারুন রশীদের ভাই আব্দুর রশীদ জানান, আমাদের গ্রামের বাড়ি ছাতক উপজেলার হাসামপুর গ্রামে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমার বাবা এই মৌজায় ২০ একর জমি ক্রয় করেছিলেন। আমরা তাঁদের মারপিট ও গ্রাম্য কোন্দনের বাহিরে থাকার পরও উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে আমার বড় ভাইকে হত্যা মামলার আসামী করেছে প্রতিপক্ষ। শুধু মাত্র আমাদের সম্পত্তির লোভে তারা এই কাজ করেছে। আমরা আমাদের জমিতে চাষাবাদ করতে পারছি না তাদের কারণে। আমরা চাষাবাদ করতে চাইলেই গ্রামের আকিক মেম্বার গং রা বাঁধা নিষেধ করেন। ঘটনার পরেই আমাদের হ্যাচারীর মাছ ও বাড়িঘর লোট করেন তারা। এখন আমার ভাই জামিনে আছেন। কিন্তু আকিক মেম্বারের কারণে আমার ভাই ঘোড়াডুম্বুর গ্রামে আসতে পারছেন না। তারা বিভিন্ন ভাবে আমাদেরকে হুমকি ধমকি দিয়ে আসছেন।
গ্রামের মুরব্বি আব্দুল গফুর জানান, মামলায় উদ্দেশ্য প্রনোদিত ভাবে হারুন রশীদকে জড়ানো হয়েছে। মূলত তার সম্পদ গুলো হাতিয়ে নেওয়ার জন্যই প্রতিপক্ষ আকিক মিয়া এই কাজ করেছেন। আমাদের দাবি নিরিহ মানুষকে হয়রানি না করতে ও আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
প্রতিপক্ষ আকিক মিয়া জানান, আমরা তাঁর জমি চাষাবাদ করতে কোন দিনই আপত্তি দেইনি। বরং হারুন রশীদ হত্যা মামলায় জড়িত থাকায় এই গ্রামে আসতে পারেনি। সে দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। তার কোন সম্পদ লোট করেনি কেউ। তাঁর জমি সে চাষাবাদ করবে এতে আমরা বাঁধা দেব কেন? শান্তিগঞ্জ থানার ওসি মহোদয় আমাদের ডেকে ছিলেন। আমরা গ্রামবাসী বলে এসেছি কারো জমি চাষাবাদ করতে আমাদের কোন আপত্তি নাই।
শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ অলি উল্লাহ জানান, এই বিষয়ে আমার কাছে একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা উভয় পক্ষের লোকজনকে ডেকেছি। হারুন রশীদ তার জমি চাষাবাদ করতে চাইলে কেউ আপত্তি করবে না বলে জানিয়েছেন। আমরা তাদেরকে বলেছি আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোন ধরণের অরাজকতা আমরা সহ্য করবো না। ##